মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮
অনলাইন ডেস্ক
  ২২ এপ্রিল ২০২১, ১৯:০৯
আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৩৪

কবরস্থানে লাশ দাফনের জায়গা সংকট!

কবরস্থানে লাশ দাফনের জায়গা সংকট!
ফাইল ছবি

অতিমারি ভাইরাস করোনার প্রকোপ বাড়ছেই। এ ভাইরাসের কবলে পড়ে প্রতিদিন প্রাণও হারাচ্ছে অনেকে। গত এক সপ্তাহে দেশে যে হারে করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছে তার তুলনায় কবরস্থানগুলোতে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা শহর ও গ্রাম অঞ্চলে কবরস্থানগুলোতে জায়গা সংকুলন না হলেও রাজধানী ঢাকা শহরের কবরস্থানগুলোতে জায়গা সংকটে পরেছে। ঢাকায় ৮ টি সরকারি কবরস্থান রয়েছে। আজিমপুরের কবরস্থানটিতে ৩০ হাজারের মতো কবরের জায়গা হয়। ঢাকার বনানী কবরস্থানে রয়েছে ২২ হাজার কবরের জায়গা।

২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণের জুরাইন ও আজিমপুরে আর ২০১২ সাল থেকে ঢাকা উত্তরের ৬ টি কবরস্থানে স্থায়ীভাবে আর কোন কবরের জায়গা দেয়া হচ্ছে না।

৫, ১০, ১৫ ও ২৫ বছর, এরকম নানা মেয়াদে সেখানে জায়গা বরাদ্দ আছে খুব অল্প কিছু কবরের। যার জন্য দেড় থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়।

কিন্তু সেটি যারা পারছেন না তাদের জন্যেই অস্থায়ী কবর। আর সেই সংখ্যাটিই বেশি। দুবছর পর পর সেসব কবরে যোগ করা হয় আরেকটি মরদেহ। কিন্তু গত দু বছর ধরে চিত্রটা ভিন্ন।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষদের কবর দিতে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে আলাদা ব্লক তৈরি করা হয়েছে।

কবরস্থানের ৮ নম্বর ব্লকে সারি সারি মানুষকে কবর দেওয়া হয়েছে। আবার নতুন করে ওই ব্লকেই সারি সারি নতুন কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছে।

রায়েরবাজার বধ্যভূমি সংলগ্ন কবরস্থানে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, করোনা আক্রান্ত মৃত্যু ব্যক্তিদের কবর দেওয়ার চাপ বেড়ে যাওয়ায় আগেভাগেই সারি সারি নতুন কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছে।

আর ৮ নম্বর ব্লকে বহু নতুন কবর লক্ষ্য করা গেছে। মহামারিতে প্রাণহানির ভয়াবহ পরিস্থিতি শুধু হাসপাতালে নয় মানুষের সর্বোশেষ ঠিকানা কবরস্থানে এলে কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফনের জন্য নির্ধারিত এই ব্লক।

৮ নম্বর ব্লকের দক্ষিণ পাশ থেকে মৃতদেহ কবর দেওয়া হচ্ছে। আর পূর্ব ও পশ্চিম পাশে আগে থেকেই খুঁড়ে রাখা হয়েছে সারি সারি কবর। দায়িত্বপ্রাপ্ত গোরখোদকরা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। কোনো কথা বলার সময় যেন তাদের হাতে নেই।

দায়িত্বপ্রাপ্ত গোরখোদকরা কাজের ফাঁকেই বললেন, করোনায় মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ছে। সেজন্য ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়ে রাখা হয়। বাকি কাজ নিজেদের করতে হয়।

রায়েরবাজার কবরস্থানের সিনিয়র মোহরার আব্দুল আজিজ বলেন, করোনা মহামারিতে আগের তুলনায় মৃতদের সংখ্যা বেড়েছে।

সেজন্য সারি সারি কবর আগেভাগেই খুঁড়ে রাখা হয়েছে। তবে প্রথম দিকে করোনা রোগীদের দাফন দিতে কিছুটা ভীতি কাজ করত।

ভাইরাস,করোনা
আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত