বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮
অনলাইন ডেস্ক
  ০৮ এপ্রিল ২০২১, ১৭:১৯

দরুদে ইব্রাহিম পড়ার গুরুত্ব

দরুদে ইব্রাহিম পড়ার গুরুত্ব
সংগৃহীত ছবি

দরুদ শরীফ পাঠ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার স্বয়ং তাঁর প্রিয় হাবীব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়তে নির্দেশ দেন।

এটা একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের মর্যাদার প্রমাণ অন্যদিকে মুমিন বান্দার রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম উপায়। মহান আল্লাহকে পাওয়ার একমাত্র পথ খাতামুন্নাবিয়ীন হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর অনুসরণ।

দরুদে ইব্রাহিমের আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ-

اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি হজরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হজরত ইব্রাহিম ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। (বুখারী, মিশকাত)

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর উপর রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করেন। সুতরাং হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পড় এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও। (সূরা আহযাব: ৫৬)।

আয়াতের তাফসীর:

(এক) আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর প্রতি দরূদের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ নবীর (সা.) প্রতি সীমাহীন করুণার অধিকারী। তিনি তাঁর প্রশংসা করেন। তাঁর কাজে বরকত দেন। তাঁর নাম বুলন্দ করেন। তাঁর প্রতি নিজের রহমতের বারি বর্ষণ করেন। ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তার প্রতি দরূদের অর্থ হচ্ছে, তারা তাকে চরমভাবে ভালোবাসেন এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাকে সর্বাধিক উচ্চ মর্যাদা দান করেন, তার শরীয়াতকে প্রসার ও বিস্তৃতি দান করেন এবং তাকে একমাত্র মাহমুদ তথা সবোর্চ্চ প্রশংসিত স্থানে পৌঁছিয়ে দেন।

(দুই) এ আয়াতে মুসলমানদেরকে দুটো জিনিসের হুকুম দেয়া হয়েছে। একটি হচ্ছে, ‘সাল্লু আলাইহে’ অর্থাৎ তার প্রতি দরুদ পড়। অন্যটি হচ্ছে, ‘ওয়া সাল্লিমূ তাসলীমা’ অর্থাৎ তার প্রতি সালাম ও প্রশান্তি পাঠাও। ‘সালাত’ শব্দটি যখন ‘আলা’ অব্যয় সহকারে বলা হয় তখন এর তিনটি অর্থ হয়: এক, কারো অনুরক্ত হয়ে পড়া! দুই, কারো প্রশংসা করা। তিন, কারো পক্ষে দোয়া করা। এ শব্দটি যখন আল্লাহর জন্য বলা হবে তখন একথা সুম্পষ্ট যে, তৃতীয় অর্থটির জন্য এটি বলা হবে না। কারণ আল্লাহর অন্য কারো কাছে দোয়া করার ব্যাপারটি একেবারেই অকল্পনীয়।

দরুদের বিষয় নবী করীমের (সা.) ভদ্রতা ও মহানুভবতার ফলে তিনি কেবল নিজেকেই এ দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে নেননি। বরং নিজের সঙ্গে তিনি নিজের পরিজন স্ত্রী ও পরিবারকেও শামিল করে নিয়েছেন। স্ত্রী ও পরিবার অর্থ সুস্পষ্ট আর পরিজন শব্দটি নিছক নবী করীমের (সা.) পরিবারের লোকদের জন্য নির্দিষ্ট নয়। বরং এর মধ্যে এমনসব লোকও এসে যায় যারা তার অনুসারী এবং তাঁর পথে চলেন।

ইমামদের মতামত নবী করীমের (সা.) প্রতি দরুদ পড়া ইসলামের সুন্নাত। তার নাম উচ্চারিত হলে তার প্রতি দরুদ পাঠ করা মুস্তাহাব। বিশেষ করে নামাজে দরুদ পড়া সুন্নাত। এ বিষয়ে সমগ্র আলেম সমাজ একমত। সমগ্র জীবনে নবী (সা.) এর প্রতি একবার দরুদ পড়া ফরজ, এ ব্যাপারে ইজমা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারণ আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এর হুকুম দিয়েছেন।

দরূদ পাঠর ফজিলত :

১. ফেরেশতারা মাগফিরাতের দোয়া করেন, ২. দরুদ পাঠকারীর জন্য শাফাআত অবধারিত, ৩.কিয়ামতের দিন নবীজীর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, ৪. দোজাহানের সকল মকসূদ হাসিল হবে, ৫. যে চায় তাকে কোঁচর ভরে দেয়া হবে, ৬. গরীব পাবে সদকার সওয়াব।

রহমত, মাগফিরাত ও দরজা বুলন্দির আমল- আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছেন, ‘যে আমার উপর একবার দরুদ পড়বে, বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন। (সহীহ মুসলিম ১/১৬৬; জামে তিরমিযী ১/১০১)

অন্য হাদীসে আছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসূলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে আমার উপর একবার দরুদ পড়বে আল্লাহ তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন, তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং দশটি দরজা বুলন্দ হবে। (সুনানে নাসায়ী ১/১৪৫; মুসনাদে আহমদ ৩/১০২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৪৩)

অন্য বর্ণনায়, আবু বুরদা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তার আমলনামায় দশটি নেকী লেখা হবে। (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী ২২/৫১৩)

ফেরেশতারা মাগফিরাতের দোয়া করেন- হজরত আমের ইবনে রবীআহ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.) কে খুতবার মধ্যে বলতে শুনেছি, ‘আমার উপর দরূদ পাঠকারী যতক্ষণ দরূদ পড়ে ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে। সুতরাং বান্দার ইচ্ছা, সে দরুদ বেশি পড়বে না কম।’ (মুসনাদে আহমদ ৩/৪৪৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৪০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৯০৭)

আমরা যখন মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য দোয়া করবো এবং আমাদের গুনাহ মাফের জন্য দোয়া চাইবো তখন দরুদ শরীফ পাঠ করবো। কারণ, মহান আল্লাহর দরবারে মুক্তি ও মাফ চেয়ে মুনাজাত ধরলে, দোয়া করলে তা দরুদ শরীফ পাঠের উসিলায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রতি রহমত ও সালাম পেশের দরুণ সেই দোয়া কবুল হয়ে যায়।

রাসূল (সা)
আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত